May 29, 2024, 7:29 pm
শিরোনাম :
নওগাঁর মহাদেবপুরে ভূয়া এতিমখানার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ শার্শায় মাদকদ্রব্য সহ গ্রেফতার -৬ রুস্তমপুর হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে অনিয়ম, অতিরিক্ত ইজারার বলি সাধারণ জনগন মাদারীপুর ,৩৫০ পিচ ইয়াবাসহ গোয়েন্দা পুলিশের হাতে একজন আটক. নড়াইল জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসুম, সম্পাদক খোকন বেনাপোল কাস্টমস কর্মকর্তা এসি নুরের অবাধ ঘুষ বাণিজ্য টাকা উড়ানো সহজ উপার্জন নয়! শিল্পপতি লোহানী সাহেবের ছেলের জীবনের গল্প! নরসিংদী মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে হত্যা ভারতে রেমাল ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে বিদ্ধস্ত ভারতের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চল। “মজার গপ্পো,, বাসর রাতে বর নতুন বউকে জিজ্ঞেস করলো… বিয়ের আগে কি কেও তোমার জীবনে ছিলো…?

রুস্তমপুর হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে অনিয়ম, অতিরিক্ত ইজারার বলি সাধারণ জনগন

স্টাফ রিপোর্টার:

বিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার রুস্তমপুর পশু হাটে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সরেজমিনে পশু ক্রয়- বিক্রয়ে অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রতিটি গরুর জন্য ৫০০ টাকার স্থলে বিক্রেতা ১০০ টাকা এবং ক্রেতা ৭০০ টাকা সহ মোট ৮০০ টাকা এবং প্রতিটি ছাগলের জন্য ১৫০ টাকার স্থলে বিক্রেতা ১০০ টাকা এবং ক্রেতা ৪৫০ টাকা সহ মোট ৫৫০ টাকা করে টোল আদায় করা হচ্ছে। যা সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে প্রতিটি গরুর জন্য ৩০০ টাকা এবং প্রতিটি ছাগলের জন্য ৪০০ টাকা বেশি। হাটে গরু, ছাগল ক্রয় করে খাজনা’র টাকা দিতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে।

এ বিষয়ে উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার রফিকুল ইসলাম জানান, মাত্র ৪৬ হাজার টাকায় গরু কিনে ইজারা টোল গুনতে হয়েছে ৭০০ টাকা। পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়ন এলাকার আমির আলী জানান, আমি একটি বাছুর গরু ক্রয় করেছি যার মূল্য ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। আমার কাছেও ইজারা টোল নিয়েছে ৭০০টাকা। এছাড়াও বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর এলাকার জান্নাত আলী বলেন, আমি ৫৫ হাজার টাকা দামে একটি বাছুর গরু কিনেছি। আমার কাছে ইজারা টোল নিয়েছে ৮০০ টাকা। কম নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি ইজারাদারের লোকেরা মানেনি তাই বাধ্য হয়ে আমি তা পরিশোধ করেছি।

এছাড়াও চারঘাট উপজেলার বড়বড়িয়া এলাকার ছাগল ক্রেতা মোশাররফ বলেন, আমি ৮ হাজার ৯শ টাকা দিয়ে ছাগল কিনেছি। অথচ খাজনা দিতে হলো ৪৫০ টাকা। সরকারের নির্ধারিত খাজনা ছাগল প্রতি ১৫০ টাকা থাকলেও ইজারদার অতিরিক্ত ৩০০ টাকা বেশি নিচ্ছে। যিনি বিক্রি করতে এসেছেন তার কাছ থেকে আরও ১০০ টাকা সহ মোট ৪০০ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে।

রুস্তমপুর পশু হাটের ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, একদিকে ইজারাদাররা আমাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ইজারা আদায় করছে। অপরদিকে রশিদে খাজনার পরিমাণও উল্লেখ করা হচ্ছে না।

জানা যায়, সরকারি ভাবে প্রতিটি গরুর জন্য ৫০০ টাকা ও প্রতিটি ছাগল-ভেড়ার জন্য ১৫০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে শুধু ক্রেতা টোল দেবেন বিক্রেতা নয় এমনটি স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। শুধু ক্রেতার কাছ থেকে টোলের টাকা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও রুস্তমপুর হাটের ইজারাদারের লোকজন বিক্রেতাদের কাছ থেকেও গরু প্রতি ১০০ টাকা এবং ছাগল প্রতি ১০০ টাকা আদায় করছেন।

সরকার নির্ধারিত মূেল্য খাজনায় আদায় করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে রুস্তমপুর হাটের ইজারদারের প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশের সব বাজার কি নিয়মে চলে?
আমরাও এভাবেই করছি। কারণ হাটটি অনেক বেশি টাকায় ইজারা নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে আড়ানী পৌরসভার মেয়র মুক্তার আলী বলেন, রুস্তমপুর পশু হাটে অতিরিক্ত খাজনার টাকা আদায়ের বিয়টি আমি দেখবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পৌরসভা দেখভাল করে। তবে লিখত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উল্লেখ্য, আলহাজ্জ্ব রফিকুল ইসলাম ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ইং সালে ২কোটি ৩৭ লক্ষ ৯শ ২৭ টাকা এবং চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারী ২ কোটি ৬১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দর দিয়ে রুস্তমপুর বাজার ইজারা নেন রফিকুল ট্রেডার্স। অতিরিক্ত ইজারা পুষিয়ে নিতেই অতিরিক্ত খাজনার টাকা গুনতে হচ্ছে সধারণ ক্রেতাদের। প্রকৃত অর্থে এ দায় কার, প্রশ্ন জনমনে?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা